রাজনীতিরাজশাহী

স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থকের হাত-পা ভেঙে দিলো নৌকার সমর্থকরা

।। মহাকাল নিউজ ডেস্ক ।।
নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর গোডাউন মোড় এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থক হলেন, শরিফুল ইসলাম (৩২) ও সিরাজুল ইসলাম (৩৫)। শরিফুল উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে এবং নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজুল একই ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনিও যুবলীগের সদস্য। তারা দুজনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভনের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। আহতদের মধ্যে শরিফুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন, হামলার শিকার দুই ব্যক্তি তার সমর্থক। একের পর এক তার সমর্থিতদের ওপর হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন নৌকা সমর্থকেরা।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে নৌকা সমর্থিত ইউপি সদস্য আলম ও আল-আমিন গত রোববার (১৭ ডিসেম্বর) তার সমর্থক জালাল শাহকে পিটিয়ে জখম করেছিলেন। এ ঘটনায় মামলাসহ তারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই মামলায় মঙ্গলবার জামিনে বেরিয়ে এসেই তার আরও দুই সমর্থককে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখম করেন তারা।

হামলার শিকার শরিফুল ইসলাম জানান, নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থক নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে না থাকার জন্য হুমকি দিয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করতে বলেন। কিন্তু আয়ুব চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। তারই জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য আলম, স্থানীয় আল-আমিনসহ ৮/১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে জিআই পাইপ এবং লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে জখম করেন।

অপর আহত সিরাজুল জানান, শরিফুলের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। আলম মেম্বার লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এসময় তাকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাহনিক বলেন, আহত শরিফুলের ডান হাত এবং বাম পায়ের হাটুর নিচে একাধিক স্থানে ভেঙে যাওয়ার ধারণা করা হচ্ছে। শরিফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত সিরাজুলের শরীরের কাটা এবং জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বাংলানিউজকে জানান, আহত শরিফুল এবং সিরাজুল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নন। মূলত আলম মেম্বারের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে তাদের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এতে তার বা নৌকা সমর্থিতদের কোনো হাত নেই।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, হামলাকারীরা জামিনে এসে আবারও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button