অন্যান্যবরিশাল

।।একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ।। আদর্শ পুলিশ অফিসার বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আফজাল হোসেন

।।এম এইচ কামাল, বাকেরগঞ্জ।।

বাংলাদেশ পুলিশের সময়ে -অসময়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশিরভাগ আলোচিত হয়। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারাও যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই, আমরা তা স্বীকার করতে নারাজ। দুয়েকজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করি না। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে লাখ,লাখ পুলিশ সদস্য।কনস্টেবল থেকে শুরু করে রয়েছে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা।

তাদের মধ্যে বরিশাল রেঞ্জের বাকেরগঞ্জ থানায় একজন সুদক্ষ, সৎ, মেধাবী, আদর্শবান, চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, মাস্তান, মাদক ব্যবসায়ীদেরসহ বিভিন্ন অপরাধীদের আতঙ্ক, জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন। এই আফজাল হোসেন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় যোগদান করে সুনামের সহিত পুলিশিং সেবা দিয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় তিনি একজন ব্যতিক্রমধর্মী মিষ্ট ভাষী মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।বাকেরগঞ্জ থানায় দায়িত্ব নেবার পর থেকে বিভিন্ন সময় চুরি,ডকাতি,ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটেজিং,ভুমি দূস্য,দখলবাজি, মাদক ব্যাবসা, জুয়া সহ অপরাধ দমনে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই রেয়েছে তার অসাধারণ সাফল্য।

তার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মেধা,দক্ষতা,বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কোন অপ্রতিকর ঘটনাই ছাড়াই অবাধ,সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। তিনি যেমনি তাহার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট প্রশংসিত হয়েছেন তেমনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার সর্বসাধারণের নিকট প্রশংসিত হয়েছেন অতুলনীয়ভাবে। “পুলিশ জনগণের বন্ধু” এই মন্ত্রকে বুকে ধারণ করে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আধুনিকতা, প্রযুক্তি ও সততা এবং মেধার দক্ষতা দিয়ে অপরাধ দমন করার চেষ্টা করেন মানুষের কল্যাণে। “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তাঁর প্রতিটি কর্মে।তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পরে বিভিন্ন সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের গ্রেফতার,চোর ডাকাত গ্রেফতার,বিভিন্ন মাধক ব্যাবসায়ীদের গ্রেফতার এমন কি তিনি যোগদানের পূর্বে বাকেরগঞ্জ থানাটি ছিলো ‌‌‌‌”গরু চোর” অধ্যুষিত এলাকা।

সেখানে তিনি তার মেধা ও দক্ষতা দিয়ে অপরাধীদের অতি সল্প সময়ে সনাক্ত করে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের মাধ্যমে সকলের আস্থা অর্জন করেছেন অতি সল্প সময়ে মধ্যে।আর তার এই অসাধারণ কর্তৃত্বের জন্যই বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার বারবার বাকেরগঞ্জ থানাকে জেলার শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে মনোনীত করে ওসি আফজাল হোসেনকে পুরস্কৃত করেছেন একাধিকবার।

অতি সুদক্ষ,মননশীল,জনবান্ধন বাকেরগঞ্জ থানার মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ অফিসার হিসেবে রয়েছেন সাধারণ মানুষের মনিকোঠায়।উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার অধিকাংশ মানুষই তাকে গরীবের বন্ধু ভাবেন। তিনি তার সততা,বিচক্ষণতা,বুদ্ধিমত্তা এবং মেধা দিয়ে তার থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক নির্মূল , সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজীমুক্ত, চোর-ডাকাতের উৎপাত ও দখল বাজদের হাত থেকে এলাকায় কঠোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করছেন। তার চোখে ধনী-গরীব, জেলে, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেনিপেশার মানুষ সমান।

তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশে মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনছেন। তিনি একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন একজন পুলিশ অফিসার। “মামলা নয়, আপোষ হলে ভালো হয়”-এই স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর থানায় অধিকাংশ অভিযোগ বাদী-বিবাদীর মধ্যে আপোষের মাধ্যমে সমাধান করে দেন। ফলে তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে বিগত সময়ের তুলনায় থানায় মামলা বহুলাংশে কমে গেছে।তার মতো দক্ষ, সৎ ও কর্তব্যপরায়ন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি গর্ব।

প্রতিটি অপরাধ দমনে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেনের মতো পুলিশ অফিসার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের বাকেরগঞ্জ থানার ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করছেন।তার ছুটে চলা সর্বত্র কখনও তিনি লাঠি হাতে সড়কে, কখনো অসহায় এতিম শিশুদের পাশে, কখনও অসহায় সম্বলহীন সম্প্রদায় ও বেদে সম্প্রদায় পাশে থেকে নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন বলে জানা যায।আর এসবের একটাই মূল লক্ষ্য- মানুষের সেবা ও আস্থা অর্জন।কোভিড-১৯ নামে এক ঘাতকের আঘাতে পৃথিবী লন্ডভন্ড। ছোঁয়াচে এক অদৃশ্য জীবাণুর কারণে সবাই ভয়ে তটস্থ ছিলেন। তখন আপন মানুষগুলোও যেন পর হয়ে গিয়েছিলো। প্রিয়জনও দূরে সরে গিয়েছিলো। সে সময় মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে অন্যের সাহায্যে ছুটে গিয়েছিলেন বর্তমানের এই বাকেরগঞ্জ থানার অত্যন্ত চৌকস,মেধাবী ও সুদক্ষ ওসি আফজাল হোসেন।তাহার সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকারকালে তিনি জানান, করনাকালীন সময়ে দায়িত্বরত থানায় তিনি পথচারীদের মাঝে মাক্স বিতরণ, অটোরিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণ, রাতের আধারে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, কনকনে শীতে অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণসহ নানা বিধ কর্মে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। একজন নেতা যেমন কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, একজন কোচ যেভাবে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে নিয়ে আনেন ঠিক একইভাবে তিনি তাঁর সৎ আদর্শ, মেধা এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন।শত বিপদে, প্রতিকূলতার মধ্যে যিনি বট গাছের ন্যায় আগলে রাখেন অধীনস্থ তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সাধারণ জনগণ ও তার পুলিশ সদস্যদের।তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ হন।

বাকেরগঞ্জ থানায় আসা একব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি ওসি আফজাল হোসেনের সম্পর্কে জানান, তিনি থানায় যোগদানের পর থেকে চুরি-ডাকাতি কমে যাওয়ায় রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি এবং তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আতঙ্ক। তিনি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সর্বস্তরের জনগণের নিকট তিনি একজন অসাধারণ ভালো মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছেন।এলাকাবাসীর অনেকেই জানান,জানতাম না যে,তার মত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে এত সৎ ন্যায়-নীতিবান মানবিক অনুভূতির পুলিশ কর্মকর্তাও আছে।অন্যদিকে বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদান করার পর ব্যতিক্রম বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেন। এলাকায় ছাত্র, তরুণ এবং যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মযজ্ঞের আয়োজন করেন।

এবিষয়ে তিনি বলেন, আইনের সেবক হয়ে জনতার সারিতে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবো। প্রতিটি মানুষ আমাকে খুব কাছ থেকে পাবে এবং তাদের সমস্যার কথা গুলো বলতে পারবে ঠিক তেমন ভাবে আমি এই বাকেরগঞ্জ থানায় যতদিন আছি ততদিন আমি আইনের সেবক হয়ে সকলের জন্য কাজ করে যাবো।

তিনি দৃঢ়ভাবে আরো বলেন,বরিশাল জেলার সুযোগ্য মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় ও তার সহযোগিতায় আমি আমার নিজ থানায় সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, একজন পুলিশের কাছে সেটাও সম্ভব একজন অপরাধীকে ঘৃণার দৃষ্টিতে না দেখে আইনের মাধ্যমে তাকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে আলোর পথে নিয়ে আসা হবে আমার মূল কাজ এবং আমি আমার সর্ব চেষ্টা দিয়ে করতে পারি তাকে ভালো করার সুযোগ দেয়ার।আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যিকারভাবে মানুষের স্বপ্নের পুলিশ হতে চাই। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সর্বাত্মকভাবে সকলের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা চান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button